স্ত্রীর বুকের দুধ স্বামী পান করলে কি তালাক হয়ে যায়? — ইসলামের বিধান কী?
স্ত্রীর বুকের দুধ স্বামী পান করলে কি তালাক হয়ে যায়?
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়, যেগুলো নিয়ে সমাজে নানা ধরনের কথা প্রচলিত আছে। এর মধ্যে একটি হলো—কোনো কারণে স্বামী যদি স্ত্রীর বুকের দুধ পান করে ফেলেন, তাহলে কি তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় বা তালাক হয়ে যায়?
এখানে প্রথমেই পরিষ্কারভাবে বলা দরকার, শুধু স্ত্রীর দুধ স্বামী পান করার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাক হয়ে যায় না। স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জন্য তালাকের নির্দিষ্ট কারণ ও শরয়ি বিধান রয়েছে।
দুধের সম্পর্ক কী?
ইসলামী শরিয়তে শিশুর দুধ পান করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে “দুধের সম্পর্ক” বা রিদা‘আত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তখন দুধ-মা, দুধ-বাবা এবং নির্দিষ্ট দুধ-ভাইবোনের মতো সম্পর্কের কারণে বিবাহের কিছু বিধান প্রযোজ্য হয়।
তবে এই বিধান মূলত শিশুকালে দুধ পান করার সঙ্গে সম্পর্কিত। একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে সেটিকে শিশুর দুধপানের মতো দুধ-সম্পর্ক সৃষ্টি করার কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় না—এটাই অধিকাংশ আলেমের মত।
তাহলে স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ কি বাতিল হয়ে যায়?
না। স্ত্রী তার স্বামীকে দুধ পান করালে বা স্বামী অনিচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর দুধ পান করে ফেললে তাদের বিবাহ বাতিল হয়ে যায় না এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাকও হয় না।
তাই এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত হয়ে “আমাদের তালাক হয়ে গেছে” এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
ইচ্ছাকৃতভাবে পান করার বিষয়টি
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা নিয়ে ফিকহের আলোচনায় আলেমদের মধ্যে কিছু মতভেদ ও আদব-সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে। তাই কেউ যদি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন এবং বিষয়টি নিয়ে শরয়ি দিক থেকে নিশ্চিত হতে চান, তাহলে নিজের অনুসৃত মাজহাব অনুযায়ী একজন নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা উত্তম।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিষয়ে অনেক সময় অসম্পূর্ণ বা অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। “স্ত্রীর দুধ পান করলেই তালাক হয়ে যাবে”—এ ধরনের কথা সাধারণভাবে সঠিক নয়।
দাম্পত্য সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো পোস্ট বা ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কুরআন-সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফিকহের ব্যাখ্যা অনুসরণ করা উচিত।
সংক্ষেপে: প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর বুকের দুধ পান করলে শুধু এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর তালাক হয়ে যায় না বা বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন!